ফ্রন্টলাইন বাংলাদেশ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন দ্রুত পুনরায় চালু করা না গেলে দেশটির রপ্তানিযোগ্য তেলের মজুত কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক তেল ব্যবসায়ীরা। এতে বিশ্ববাজারে দৈনিক তেল সরবরাহ প্রায় ৪ শতাংশ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

রোববার এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সৌদি আরব থেকে জ্বালানি সরবরাহ আরও কমে গেলে বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হতে পারে। এরই মধ্যে সংকটের প্রভাবে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব তাদের অন্যতম প্রধান পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। তবে হামলায় পাইপলাইনটির কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এবং এটি কত দিন বন্ধ থাকবে, সে বিষয়ে রিয়াদ এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মধ্যে মেরামতের সময় নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন মেরামতে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। অন্য একটি সূত্রের দাবি, তুলনামূলক কম সময়ের মধ্যেই মেরামত সম্ভব এবং কাজ চলাকালীন আংশিকভাবে তেল পাম্পিংও চালু করা যেতে পারে।

সৌদি সরকারের তথ্য দপ্তর ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

দিনে ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনের সক্ষমতা

আরব উপদ্বীপের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই পাইপলাইনটি সৌদি আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রপ্তানি পথ। হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেল পরিবহনে বিঘ্ন তৈরি হলেও এই পাইপলাইনের মাধ্যমে সৌদি আরব লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পাঠিয়ে রপ্তানি অব্যাহত রাখতে পারছিল।

শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, পাইপলাইনটির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল ইয়ানবু বন্দরে পাঠানো সম্ভব, যা বিশ্বের মোট দৈনিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশের সমান।

তবে পাইপলাইন বন্ধ থাকায় ইয়ানবু বন্দরে থাকা মজুত দিয়ে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিন রপ্তানি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছে সৌদি তেল রপ্তানি বিষয়ে অবহিত তিনটি শিল্প সূত্র।

এ ছাড়া মিসরের আইন সুখনা ও ভূমধ্যসাগরীয় সিদি কেরির বন্দর দিয়ে আরও কয়েক দিন গ্রাহকদের তেল সরবরাহ করার মতো সীমিত মজুত সৌদি আরবের রয়েছে বলেও একটি সূত্র জানিয়েছে।

শিল্প খাতের হিসাব অনুযায়ী, ইয়ানবু বন্দরের তেল সংরক্ষণ সক্ষমতা প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল। আইন সুখনা ও সিদি কেরির বন্দরের ধারণক্ষমতা যথাক্রমে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ও ২ কোটি ব্যারেল। তবে এসব মজুতকেন্দ্র পুরোপুরি পূর্ণ নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে তেল পরিবহন কমে যাওয়ায় গত আগস্টে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ দৈনিক ৫৭ লাখ ব্যারেল বা প্রায় ৬ শতাংশ কমে যেতে পারে।

এদিকে পাইপলাইনে হামলার পাশাপাশি সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলার হুমকিও দিয়েছে হুথিরা। শিল্পসংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, যুদ্ধ শুরুর আগে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রবাহ কমে দৈনিক প্রায় ৬০ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে।

সৌদি আরব গত সপ্তাহে ওপেককে জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন ছিল প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ ব্যারেল। আগস্টে তা কমে প্রায় ৬২ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সূত্র: রয়টার্স